দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ-এ অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে অধ্যক্ষ প্রফেসর খন্দকার মো. হুমায়ুন রেজা কবীরকে এক ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে তৈরি হয় ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও স্মৃতিমাখা এক অনন্য পরিবেশ।
কলেজ শিক্ষক পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আহসান হাবীব এবং সঞ্চালনা করেন পরিষদের সম্পাদক মো. সাইফুদ্দীন এমরান। অনুষ্ঠানে শতাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর উপস্থিতিতে অধ্যক্ষকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে দেখা যায় ব্যতিক্রমী এক আয়োজন। কলেজের বিভিন্ন বিভাগের উদ্যোগে অধ্যক্ষকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বিদায় জানানো হয়। কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তাঁকে বিরামপুর উপজেলা-র পূর্ব জগন্নাথপুর গ্রামে তার নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফুলবাড়ীতে এমন আয়োজন এই প্রথম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণকারী প্রফেসর খন্দকার মো. হুমায়ুন রেজা কবীর প্রায় ২৯ বছরের কর্মজীবন সম্পন্ন করেছেন। তিনি এই কলেজেরই শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ ১৮ বছর এখানে শিক্ষকতা করেন। সবশেষে প্রায় এক বছর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও মানবিক গুণাবলির জন্য তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার কাছে ছিলেন শ্রদ্ধেয়। বিশেষ করে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তার অবদান প্রশংসিত হয়েছে।
বিদায় বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “এই কলেজ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এখানে আমি শিখেছি, বেড়ে উঠেছি এবং সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আমি সবসময় ন্যায়ের পথে থাকার চেষ্টা করেছি। তোমাদের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
সহকর্মীরা বলেন, তিনি শুধু একজন প্রশাসকই নন, বরং একজন অভিভাবকের মতো ছিলেন। নীতির প্রশ্নে আপসহীন এই মানুষটির বিদায়ে কলেজ পরিবার একজন আদর্শ ব্যক্তিত্বকে হারালো।
শিক্ষার্থীরাও জানান, তিনি ছিলেন তাদের ভরসার জায়গা।
অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, স্যার সবসময় ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতেন। গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি ছিলেন আশ্রয়স্থল। আমরা তাঁকে খুব মিস করবো।
কর্মচারীরাও তার মানবিক আচরণের কথা তুলে ধরে বলেন, তিনি সবসময় তাঁদের সম্মান দিতেন এবং প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতেন।
বিদায়ী সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয় এবং সহকর্মীরা স্মৃতিচারণ করেন।
কলেজ প্রাঙ্গণে হয়তো আর প্রতিদিন দেখা যাবে না তার উপস্থিতি, তবে তার সততা, মানবিকতা ও ভালোবাসার স্মৃতি শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।
জে আই